Mind
আমার দোকান বন্ধ হওয়ার কথা লিখতে বসে দেখলাম, অংশীদারের ভুলের জন্য অনেকটা জায়গা রেখেছি, নিজের ধার করে বেশি মাল তোলার কথাটা এক লাইনে শেষ। হিসাবটা এমন ছিল না। তার কাছে পাওনা ছিল ঠিক, কিন্তু টাকা ফেরত আসবে ধরে যে খরচ করেছিলাম, সেই সিদ্ধান্ত আমার। নাতনিরা একদিন পড়লে শুধু একজন খারাপ লোকের জন্য দাদার সর্বনাশ হয়েছিল ভাবুক, তা চাই না। আবার সব দোষ নিজের ঘাড়ে নিলেও মিথ্যা হবে। আজ নামগুলো বাদ দিয়ে কে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার ছোট তালিকা করেছি। গল্প পরে লিখব। রাগের জায়গায় এখনও বাক্য শক্ত হয়ে যায়, সেটা আগে চোখে পড়ত না, আজ পড়েছে।
Body
ছোট নাকফুলটির পিন ধরতে সকালে দুবার চিমটা বদলাতে হলো। আঙুলের গাঁট তখনও শক্ত, চাপ দিচ্ছি অথচ ডগায় ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না। পাশের ছেলেটি চা এনে রাখল, গরম কাপের গায়ে হাত রেখে খানিক বসে থাকলাম। তারপর কাজটি হলো, তাড়াহুড়া ছাড়াই হলো। এই বয়সে প্রতিদিন হাত একই রকম থাকে না, তা জানি, কিন্তু প্রথম চেষ্টায় না পারলে এখনও বিরক্ত হই। দুপুরে বাড়ি ফিরে জামার বোতাম খুলতে কোনো অসুবিধা হয়নি। স্ত্রী বলল আজ মুখ ভালো দেখাচ্ছে। তাকে নাকফুলের কথা বলিনি, বললাম গরম কম ছিল। আসলে ওই ছোট পিনটি ঠিকমতো বসানোর পর থেকে হাত দুটোকে আর এত ভারী লাগছিল না।
Emotion
নাতনি আমার খাতা থেকে বাজারের একটা লেখা জোরে পড়ল। আমি ভেবেছিলাম দুটো বানান শুধরে রেখে দেবে, সে পুরোটা পড়ল, তারপর জিজ্ঞেস করল চায়ের দোকানের লোকটি এখনও আছে কি না। লোকটি নেই বহু বছর, সে কথা বলতে গিয়ে মনটা খারাপ হলো, আবার আনন্দও পেলাম যে মেয়েটি তাকে সত্যি একজন মানুষ ভেবেছে, দাদার পুরোনো গল্প বলে সরিয়ে দেয়নি। বেশি কিছু বলতে পারলাম না। খাতা ফেরত নিয়ে পাতার কোণ সোজা করছিলাম, স্ত্রী দেখে হাসল। প্রশংসা শুনলে কী করতে হয় এই বিরাশি বছরেও শিখলাম না। রাতে আবার সেই পাতাটি খুলেছি, একটি ভুল বানান চোখে পড়েছে, কিন্তু আজ লেখাটা কাটতে ইচ্ছা করছে না।