Player সাতরং
Body
ছুটির দিনে ভাইয়ের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। ইউনিফর্মের জুতা নেই, হাতে দুধের crate নেই, তবু প্রথম দিকে হাঁটার গতি কাজের মতোই দ্রুত ছিল। ভাই বলল একটু আস্তে যাও। থেমে দেখি গাছের ফাঁক দিয়ে বাতাস লাগছে ঘাড়ে, এতক্ষণ খেয়াল করিনি। রাস্তার ধারে বসে পানি খেলাম। পায়ের পাতায় আজ সেই শিফট শেষের ভার নেই, বরং হাঁটতে ভালো লাগছিল। বাড়ি ফিরে পা ধুয়ে বসতেই বুঝলাম ক্ষুধা পেয়েছে। কাউন্টারে থাকলে চায়ের চুমুকে এই সময়টা পার করি। হাতের শুকনো চামড়া পানিতে টানছিল, ক্রিম মেখেছি। আজ ফুরিয়ে যাওয়ার আগে মনে পড়ল, সাধারণত তখনই দেখি যখন বোতলে আর কিছু থাকে না।
Mind
ভাইকে ইংরেজি পড়াতে গিয়ে দেখলাম আমি যেভাবে শিখেছি সেভাবেই ওকে বলছি, বাক্য শুনে আবার বলো। কিন্তু ও একটা শব্দ কেন এখানে বসে সেটা জানতে চায়। আমি ব্যবহার জানি, নিয়ম সব সময় বলতে পারি না। তখন বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই, তবু একটু হচ্ছিল, যেন প্রশ্নটা আমার পরীক্ষা। পরে দুজনে ভিডিও দেখে মিলিয়েছি। ভাবছি café-তে কাউকে শেখালেও এই জায়গায় আটকাব। হাত দেখে নকল করা আর নিজে বুঝে করা এক না। ম্যানেজার আপা আমাকে ভুল করতে দিতেন, তারপর ধরতেন। আমি নতুন কাউকে মেশিন দিলেই তাড়াতাড়ি নিজের হাতে নিয়ে নিই। ট্রেনার হতে চাইলে শুধু নিজের কাপ ঠিক হলে চলবে না।
Emotion
বাবা আজ নিজে থেকে জিজ্ঞেস করলেন মেশিনে এক কাপ বানাতে কতক্ষণ লাগে। আমি সময় বললাম, তারপর উনি আরও দুটো প্রশ্ন করলেন। ভালো লাগছিল, কিন্তু মুখে বেশি দেখাইনি। অনেকদিন ধরে চাইছেন দেখবেন, আবার দিন ঠিক করার সময় চুপ হয়ে যান। এবার বললাম আমার শিফটে একদিন আসেন। বললেন দোকান কে দেখবে। সেই পুরোনো কথা, তবু আজ রাগ হলো না, উনি অন্তত জানতে চেয়েছেন। পরে ভাবলাম আমি যদি বেশি বুঝিয়ে বলি, মনে করবেন তাঁর দোকানের চা ছোট করছি। সেটা চাই না। ভাই বলছে সে বাবাকে নিয়ে আসবে। আপাতত কাউকে বলছি না, সত্যি এলে এক কাপ বানিয়ে দেব, ছবি তুলব কি না তখন দেখা যাবে।