Emotion
অফিসের নতুন মেয়েটা আজ নিজে থেকে তার হিসাব নিয়ে এল। ভুল ছিল, কিন্তু আগেরবার যে জায়গাটা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম সেটা ঠিক করেছে। ভালো লাগল। বলার বদলে বাকি ভুল দুটো দেখিয়ে দিলাম, অভ্যাস। সে খাতা বন্ধ করার সময় মুখটা শুকিয়ে গেল। তখন বললাম, আগের কাজটা এবার ঠিক হয়েছে, সেটা দেখেছি। হাসল। এতটুকু কথা আগে বললে আমার কিছু কমত না। নিজের প্রথম মাঠের দিন মনে পড়ে গেল, সবাই আমার পেছনে সার্ভেয়ার সাহেব খুঁজছিল। ওই মেয়েটার যেন অন্তত আমার কাছে এসে তা না মনে হয়। তবু কাল আবার ভুল দেখলে আগে ভ্রুই কুঁচকাবে, নিজের স্বভাব তো জানি।
Body
ছুটির সকালে লেবুগাছের টবের পাশে বসে শুকনো পাতা সরালাম। রোদ তখনও বারান্দার অর্ধেক পর্যন্ত এসেছে। চায়ের কাপ ধরলে তালু গরম হচ্ছে, আর খালি পায়ের নিচে মেঝে ঠান্ডা। অফিসের দিনে এই দুটো ব্যাপার একসঙ্গে টের পাই না। অনেকক্ষণ নিচু হয়ে থাকায় উঠতে গিয়ে হাঁটু শক্ত লাগল। রেলিং ধরে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম, একটু হাঁটতেই স্বাভাবিক। মাস্টার সাহেব বললেন টবটা উঁচুতে রাখো। কথা ঠিক, তবে এখন টব সরানোর কাজ ধরতে ইচ্ছে করল না। গোসলের পর চুল খোলা রেখে বসেছিলাম। ঘাড়ে বাতাস লাগছিল ভালো। দুপুরের আগে কোথাও যেতে হবে না জানলে শরীরটাও যেন তাড়া কম দেয়।
Mind
ড্রোনের ছবিতে ছায়া পড়া একটা দাগ দেখে নতুন ছেলেটা সীমানা ধরে নিয়েছিল। পর্দায় সোজা রেখা দেখলেই জমির সীমানা হয় না, পাশের গাছের ছায়াও হতে পারে। ভাবছি শেখানোর সময় শুধু যন্ত্রের বোতাম নিয়ে বেশি বলছি কি না। হাতে মাপার সময় চারপাশটা দেখতে হতো, এখন ছবির ভেতরেই সবাই উত্তর খোঁজে। পুরোনো একটা মাঠের নকশা আর একই জায়গার ছবি পাশাপাশি রাখলে বোঝানো সহজ হবে। সব পুরোনো পদ্ধতি ভালো এমন কথাও বলতে চাই না, তাতে ওরা আমাকে ড্রয়ারের চেইনের সঙ্গে জমা দিয়ে দেবে। আগে ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে, আর কী জানা নেই, এই দুই তালিকা করতে বলব।