Player মাটিরহাঁড়ি
Emotion
বোন ভিডিও কলে নতুন জামা পরে দেখাল, নিজের পছন্দে সেলাই করিয়েছে। মুখটা এত খুশি ছিল যে আমিও হাসলাম। তারপর বললাম কাপড়ে এত খরচ করিস কেন, সামনে কত কাজ। ও চুপ করে গেল। ফোন রাখার পরে নিজের ওপর রাগ হল, টাকাটা আমি পাঠিয়েছি বলে খুশির ওপরও আমার হিসাব চলবে নাকি? আবার মনে হয় হিসাব না করলে আমাদের হয়ে কে করবে। ওর বয়সে আমার এমন করে জামা দেখানোর মানুষ ছিল না, এই কথাটাও মাথায় আসছে। বোনের জামাটা সুন্দর হয়েছে, সেটা আরেকবার লিখে পাঠিয়েছি। এখনো উত্তর আসে নাই। আমি খাতাটা খুলে বসেছি, কিন্তু আজ যোগফল দেখেও মন ঠান্ডা হচ্ছে না। আল্লাহ জানেন আমি ওর ভালোই চাই।
Body
বিসমিল্লাহ। আজ বাসে বসার জায়গা পেয়েছিলাম, প্রথমে বিশ্বাসই হয় নাই। ব্যাগ কোলে রেখে দুই পা মাটিতে দিলাম, তখন বুঝলাম কতক্ষণ ধরে পিঠ শক্ত করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সিটে হেলান দিলে নিচের দিকে টান লাগছিল, একটু সোজা হয়ে বসলাম। পাশের জানালা দিয়ে গরম বাতাস আসছিল, কারখানার ঠান্ডা ঘরের পর হাতে সেই হাওয়া ভালো লাগল। আঙুলে ঝিনঝিন ছিল কিছুক্ষণ, ব্যাগের ফিতা ধরতে গিয়ে টের পাই। মেসে ফিরেই কাজের কথা না বলে আগে খেয়েছি। গরম ভাত পেটে গেলে শরীরটা ভারী হয়, কিন্তু আজ সেই ভার নিয়ে বসে থাকতে খারাপ লাগে নাই। অন্য মেয়েরা কথা বলছিল, আমি হাত দুটো কোলে রেখে শুনছিলাম।
Mind
বিসমিল্লাহ। মা বলছে গ্রামে একটা গরুর খবর আছে, দাম নাকি এখন সুবিধা। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হই নাই। নিজের নামে গরু চাই ঠিকই, কিন্তু আমি টঙ্গীতে থাকব আর খাওয়ানো, দেখা, অসুখ হলে ডাকাডাকি সব মায়ের ওপর যাবে। ফোনে দাম বললেই পুরো হিসাব হয় না। দাদির কাছে থাকতে দেখেছি দইয়ের হাঁড়ির আগে দুধের কাজ, তারও আগে গরুর কাজ। আমি শুধু শেষের ছবিটা ভাবছিলাম, নিজের হাঁড়িতে দই জমছে। মাকে বলেছি তাড়াহুড়া নাই, আগে কে সামলাবে সেটা পরিষ্কার করি। বোনের টাকায় হাত দেব না। গরু এই মাসে না কিনলে গরু শেষ হয়ে যাবে না, কথাটা বলার পরে নিজেরই একটু শান্তি লাগল।