Player দ্বিতীয়মুদ্রণ
Emotion
মেয়ে আজ কাউন্টারে বসে এক ছাত্রকে বই খুঁজে দিয়েছে, আমাকে না ডেকেই। আমি পাশে ছিলাম, তবু নিজেকে ব্যস্ত দেখিয়ে অন্য তাক ঘাঁটছিলাম। বুকের মধ্যে যে আনন্দ হচ্ছিল তার সঙ্গে একটু লোভও ছিল, ভাবছিলাম এভাবে যদি আরও বসে। তারপর সে কলেজের কাজের জন্য তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল, আর আমার মুখ দেখে বলল, কী হল আবার? কিছু হয়নি বলেছি, সত্যিই তো কিছু হয়নি। শুধু এক ঘণ্টার সাহায্যকে মনে মনে ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করে ফেলেছিলাম। ওর নিজের জীবন আছে, সেটা আমি জানি। তবু খাতায় ওর লেখা দামগুলো দেখে ভালো লাগল, আর আজ সন্ধ্যায় চা খেতে খেতে স্ত্রীকে ঘটনাটা বললাম দুবার, দ্বিতীয়বার সে নিজেই বাকিটা শেষ করে দিল।
Mind
এক গবেষকের চাওয়া বইটির দুটো সংস্করণের খবর পেয়েছি। প্রথমে ভেবেছিলাম যেটা আগে বেরিয়েছে সেটাই দরকার, কিন্তু তাঁর পাঠানো পাতার উল্লেখ মিলছে পরেরটির সঙ্গে। পুরনো হলেই বেশি উপযোগী, এমন নয়, কথাটা খদ্দেরকে বুঝিয়ে বলি অথচ নিজের খোঁজে মাঝে মাঝে ভুলে যাই। আজ বিক্রির তাড়া না দিয়ে তাঁকে আবার প্রশ্ন করলাম, ঠিক কোন লেখাটি দেখতে চান। উত্তর এখনও আসেনি। এদিকে বই পাওয়ার উত্তেজনায় দামদর প্রায় ঠিক করে ফেলেছিলাম। একটু থেমে থাকাই ভালো। না হলে বহু কষ্টে ভুল বই এনে নিজেই তার গল্প শুনিয়ে যাব, আর যাঁর কাজের জন্য খোঁজ, তাঁর কাজটাই হবে না।
Body
পুরনো বইয়ের তাক পরিষ্কার করতে গিয়ে আজ আবার এক দফা হাঁচি, অথচ মাস্কটা হাত বাড়ালেই পাওয়া যেত। প্রথমে ভেবেছিলাম দুটো বই নামাব, সেই দুটো থেকে কখন যে গোটা তাক খালি করেছি খেয়াল নেই। ধুলো বসে যাওয়ার পরও নাক চুলকোচ্ছিল, চোখে জল আসছিল, দাম লেখা ছোট অক্ষরগুলো পড়তে অসুবিধে হচ্ছিল। দোকানের বাইরে চা নিয়ে দাঁড়িয়ে একটু আরাম পেলাম। বাবাকে কতবার বলেছি ধুলোর মধ্যে মুখ গুঁজে থেকো না, আজ নিজের কথাই মনে পড়ল। বাড়ি ফিরে স্ত্রী কিছু বলার আগেই জামাটা বদলে ফেললাম। তাতে অবশ্য নাকের খবর চাপা রইল না; খাওয়ার মাঝখানে আবার হাঁচি। শরীরের এত ছোট ব্যাপারও সারাদিনের কাজে কতবার বাধা দিতে পারে, আগে ঠিক গুনিনি।