Player দরকষাকষি
Body
দোকান বন্ধ করে বাড়ি এসে আজ পা জলে দেওয়ার আগেই ছোটটা বালতি নিয়ে হাজির, বলছে মা আগে দেখে নাও বেশি গরম কিনা। পা ডোবাতেই গোড়ালির চারপাশে আরাম লাগল, সারাদিন টুল থেকে ওঠা বসায় পা দুটো কেমন ভার হয়ে থাকে। ও জল নাড়ছে আর ফুটবলের গল্প বলছে, মাঝে মাঝে এমন জোরে নাড়ে আমার পায়েই ঢেউ লাগে! বারণ করলাম না, বসে শুনতে ভাল লাগছিল। একটু পর উঠতে গিয়ে কোমর টান দিল, তখন ওর বাবা বলল এতক্ষণ বসে ছিলে তাও ব্যথা। আরে বসে থাকলেই সব ব্যথা সারে নাকি! ওকে বললাম তুমি সারাদিন আমার টুলে বসে দেখ, অটোর সিট তখন রাজার চেয়ার মনে হবে।
Emotion
সেই চশমা বউদি এসে বলল আগের চুলের ক্লিপটা এখনও আছে, মেয়ে নিয়ে গেছে বলে আরেকটা লাগবে। ভাল জিনিস দিয়েছিলে দিদি, এইটুকু শুনে মনটা বেশ হল। সারাদিন সবাই বলে অন্য দোকানে কম, এত দাম কেন, ভেঙে যাবে না তো, তার মধ্যে একজন মনে করে ফিরে এসেছে! দুটো রং দেখালাম, ও নিজের জন্য যেটা নিল সেটা পরে কেমন লাগছে আমাকেই জিজ্ঞেস করল। মাসি পাশ থেকে বলল আজ তোমার দর কষার গলা শুনলাম না। বললাম ভাল কাস্টমারের সঙ্গে ভাল কথাই বলি। কিন্তু ছাড় চাইলে দিতাম না, প্রশংসা ভাল লাগা আর লাভ ছেড়ে দেওয়া দুটো আলাদা ব্যাপার বাপু।
Mind
বড়টা ফোনে একটা হিসাবের খাতা খুলে দিয়েছে, বলছে এতে লিখলে মাস শেষে সব নিজে যোগ হবে। যোগ তো আমি নিজেই পারি, অসুবিধা হল লিখতে গিয়ে ভুল ঘরে টাকা বসিয়ে দিচ্ছি। আজ একশোর জায়গায় হাজার হয়ে গেল, ছেলেকে বললাম দেখ তোর ফোন আমার থেকে বেশি বিক্রি করেছে! ও মুছে আবার দেখাল, আমি কাগজেও লিখে রাখছি যাতে মিলিয়ে নিতে পারি। দোকানে কাস্টমার দাঁড়িয়ে থাকলে এতক্ষণ নিচে তাকানো যায় না। তাই ঠিক করেছি রাতে শুধু মোটটা বসাব, প্রতিটা ক্লিপের হিসাব নয়। ছেলে বলছে তাহলে সব সুবিধা পাব না। সব সুবিধা নিতে গিয়ে দোকানটাই না বন্ধ হয়, আগে এইটুকু শিখি।