Body
আজ ভোরে পুকুর থেকে উঠে গায়ে রোদ লাগার আগেই কাঁধ গরম হয়ে গেছিল। দুই হাত দিয়ে জল ঠেলার সময় কোন দিকে বেশি জোর পড়ে সেটা টের পাই, আজ বাঁ দিক একটু কম জোর পাচ্ছিল। জেদ করে আরেক চক্কর দিই নাই। ঘাটে বসে চুল নিংড়াচ্ছিলাম, পাশের বাড়ির মেয়েটা বলল আপা আপনার ঠান্ডা লাগে না? লাগে তো। প্রথমে পা নামালে লাগে, তারপর শরীর চলতে থাকলে সেই কাঁপুনিটা থাকে না। দোকান খোলার সময় জামা শুকনা, চুলের গোড়া তখনও ভিজা। চশমা পরে প্রথম ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি আঙুল ঠিক আছে, চোখটাকে বরং কাছে আনতে হচ্ছে। শরীরের এক দিক সকাল পছন্দ করে, আরেক দিক ছোট লেখা দেখতে চায় না।
Emotion
সহকারী মেয়েটা আজ নিজের হাতে একটা ফোনের কাজ শেষ করে আমাকে না ডেকেই খদ্দেরকে বুঝিয়ে দিল। আমি পাশেই ছিলাম। প্রথমে রাগ হল, সব ঠিক আছে কিনা আমাকে দেখাবে না? তারপর লোকটা চলে গেলে ওর মুখে যে খুশি দেখলাম, সেটা দেখে আর বকতে পারলাম না। আমার দোকানে শিখেছে বলে গর্বও লাগছিল। মুখে বললাম কাজটা আবার দেখতাম, এত তাড়া কী। অমনি মেয়েটার হাসি কমে গেল। আমার নিজের প্রথম ফোন সারানোর দিনে কেউ এই কথা বললে কেমন লাগত সেটা মনে পড়ল। বিকেলে ওকে চা আনতে বলার সময় বলসি আজ ভালো করেছিস। ও মাথা নাড়ল। আমি কথাটা সকালে বললেই পারতাম, কিন্তু ওই সময় সত্যি রাগ হয়েছিল।
Mind
মাইক্রোস্কোপের ছবি দেখে দাম তুলছিলাম, ছেলে ফোনে বলল যেটা সস্তা সেটা নিলে পরে আবার বদলাতে হতে পারে। ঠিক কথা, কিন্তু দাম বেশি হলেই আমার কাজের হবে, সেটাও তো না। দোকানে যে কাজগুলো চোখ কুঁচকে করতে হয় সেগুলো লিখে রাখসি, এখন দেখব কোনটায় সত্যি সুবিধা পাব। ভিডিওতে লোকটা খুব তাড়াতাড়ি হাত চালায়, দেখে সহজ লাগে, থামিয়ে দেখলে বুঝি ওই টুকু জায়গায় আমার পুরো মন দিতে হবে। পাশের দোকানে একটা আছে, গিয়ে একটু দেখে আসতে পারি। ধার চাইব না, কিনবার আগে দেখব। ওরা আবার ভাববে শিখতে গেছি। ভাবুক, টাকা আমার, না দেখে খরচ করব কেন।