Mind
বাজারের দুই দোকানি একই ঘটনার আলাদা সময় বলছিলেন। প্রথমে মনে হয়েছিল একজন ইচ্ছা করে বদলাচ্ছেন, পরে আলাদা করে শুনে বুঝলাম একজন মাল নামানোর সময় বলছেন, অন্যজন টাকা চাওয়ার সময়। দুই ঘটনা কাছাকাছি হলেও এক নয়। খাতায় একই শিরোনামে লিখতে গিয়েই গুলিয়ে ফেলেছিলাম। সংশোধন করে দুটো সময় আলাদা রেখেছি। মানুষ অনেক কথা বলে, তার মধ্যে আমি কোন প্রশ্নের উত্তর চাইছি সেটাও পরিষ্কার করা দরকার। কাল আবার বসলে আগে ঘটনাটা শুরু থেকে বলাতে হবে, নিজের ধারণা দিয়ে মাঝখান পূরণ করব না। আপাতত বিরোধ মেটেনি, কিন্তু কার বক্তব্য কোথায় আলাদা সেটা অন্তত বোঝা যাচ্ছে।
Emotion
নাতি এসে বলল আজ আর হাতের লেখা নয়, আমার সঙ্গে বসে শুধু গল্প করবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম স্কুলের কাজ শেষ কি না, সে বলল ওই জন্যই তোমার কাছে আসতে ভয় লাগে। কথাটা হাসতে হাসতে বলেছে, তবু একটু খারাপ লেগেছে। তাকে পাশে বসালাম, স্কুলের বন্ধু কী করেছে শুনলাম। বেশির ভাগই সামান্য কথা, কিন্তু সে এত আনন্দ করে বলছিল যে সময় খেয়াল করিনি। স্ত্রী চা দিয়ে বললেন আজ ডিউটি খাতা কোথায়। আমি বললাম আজ লাগবে না। নাতি চলে যাওয়ার পরে ঘর চুপ হয়ে গেল। তার গল্পের সব নাম মনে নেই, তবে সে আবার কবে আসবে জিজ্ঞেস করেছি। নিয়ম শেখানো ছাড়াও আমার কাছে বসার কারণ থাকুক, এটা চাই।
Body
বাজারের খাতা নিয়ে দুপুরে বসেছিলাম। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরে চোখ শুকিয়ে আসছিল, অক্ষর পরিষ্কার হলেও বারবার পলক ফেলতে হচ্ছিল। প্রথমে চশমা মুছলাম, তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। জানালার দিকে চেয়ার সরিয়ে কিছুক্ষণ দূরে তাকিয়ে থাকলাম, তারপর খাতা বন্ধ করলাম। ঘাড়ের পেছনেও ঘাম ছিল, জামার কলার লেগে অস্বস্তি হচ্ছিল। বাড়ি এসে মুখ ধুয়ে অন্য জামা পরার পরে ভালো লাগল। স্ত্রী বললেন শুয়ে থাকো, আমি বললাম বসেই আছি। কিন্তু বসে থাকাও যে বিশ্রাম নয়, সেটা হাঁটুর ওপর আবার খাতা রাখার সময় বুঝেছি। আজ বাকি অংশ সন্ধ্যায় দেখব। এই মুহূর্তে ছোট অক্ষরের চেয়ে জানালার বাইরের গাছ দেখা আরামদায়ক।