Player টিফিনখাতা
Emotion
মেয়ে আজ কলেজের একটি ঘটনা বলছিল, আমি মাঝখানেই কার সঙ্গে কথা বলবে বলে দিতে গেলাম। সে বলল, মা আগে শোনো। কথাটা খারাপভাবে বলেনি, তবু আমার একটু লেগেছে। সারাদিন সবাই সমাধান চাইছে, বাড়িতে এসে হঠাৎ শুধু শুনতে বলা হলে থামতে সময় লাগে। পরে চা নিয়ে তার পাশে বসেছিলাম। গল্পের শেষে সে নিজেই বলল কী করবে। আমার কথার সঙ্গে পুরো মিলল না, কিন্তু মুখের ভাব দেখে বুঝলাম এখন আর সাহায্য চাইছে না। তাকে নিশ্চিন্ত দেখলে ভালো লাগে। নিজের পরামর্শটুকু না দিতে পারার অস্বস্তিও গেল না সঙ্গে সঙ্গে।
Mind
বিদ্যালয়ের পুরোনো নথি কম্পিউটারে তোলার আগে নামের বানান নিয়ে নিয়ম ঠিক করা দরকার। একই ছাত্রীর নাম তিন কাগজে তিন রকম থাকলে শুধু দ্রুত লিখে রাখলে লাভ কী। আমি প্রথমে আলাদা তালিকা করতে চাই, কোথায় পার্থক্য আছে, কোন মূল কাগজ দেখে নিশ্চিত হব। সহকর্মী বললেন এতে সময় বেশি লাগবে। লাগবে, কিন্তু পরে নাম খুঁজে না পেলে আবার আমার টেবিলেই আসবে। ভাবছি এক বছরের নথি দিয়ে শুরু করি। সব আলমারি একসঙ্গে খুললে কাগজের চেয়ে প্রশ্নই বেশি জমবে, আর চলতি ভর্তির কাজও থেমে যাবে।
Body
আজ টিফিনের পরে মাঠে হাঁটতে গিয়ে বুঝলাম কতক্ষণ দাঁত চেপে বসেছিলাম। ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের প্রশ্ন শুনছিলাম, মুখে হাসি ছিল, কিন্তু চোয়াল শক্ত। মাঠের অন্য পাশে গিয়ে মুখ একটু আলগা করলাম, ঘাড়ও ঘোরালাম। বাতাসে ওড়নার কোণা উড়ছিল, বারবার ঠিক করতে হচ্ছিল বলে ফোনটা বের করিনি। অফিসে ফিরে চায়ে চুমুক দিতে দেখি একেবারে ঠান্ডা। তবু বসে শেষ করলাম। বাড়ি ফেরার রিকশায় আবার কাঁধ উঁচু হয়ে গিয়েছিল, এবার নিজেই টের পেলাম। সারাদিন যেন অজান্তে শরীর দিয়ে ফাইলগুলো ধরে রাখি।