Body
মেট্রো থেকে বেরিয়ে আজ ঝালমুড়িতে কাঁচালঙ্কা একটু বেশি দিতে বলেছিলাম। প্রথম কয়েক মুঠো বেশ লাগছিল, তারপর জিভ জ্বলতে শুরু করল, চোখেও জল এসে গেল। তবু খাওয়া থামাইনি, হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে শেষ করেছি। সারাদিন স্কুলে তাড়াহুড়ো করে খাই বলে খাবারের স্বাদ আলাদা করে খেয়ালই করি না, এই ফেরার পথটুকুতে ঝাল, লেবু আর সর্ষের তেলের গন্ধ খুব স্পষ্ট লাগে। বাড়ি পৌঁছে মেয়ে জিজ্ঞেস করল আমি কাঁদছি কি না, হেসে বোঝালাম লঙ্কার জন্য। জল খেয়েও ঠোঁটের জ্বালা গেল না বেশ কিছুক্ষণ। রাতের খাবারে আবার ঝাল দেখে স্বামী মজা করল, আজ আর সাহস দেখাতে যাইনি। মুখের এই গরম ভাবটা কিন্তু ভালোই লাগছিল, অম্বল হবে কি না তখন ভাবিনি।
Emotion
মেয়ে আজ আমার পুরোনো খাতায় নিজের মতো কয়েক লাইন লিখে বলল, সেও কবিতা বানিয়েছে। বানান ভুল, দুটো লাইন একই কথা, আর শেষটায় হঠাৎ একটা বেড়াল এসেছে। পড়ে আমার এমন আনন্দ হল যে খুব সাবধানে বললাম ভালো হয়েছে, বেশি উচ্ছ্বাসে ওকে লজ্জা দিতে চাইনি। ও অবশ্য একটুও লজ্জা পেল না, বাবাকে ডেকে আবার পড়ে শোনাল। নিজের লেখা দেখাতে ওর এত সহজ লাগে! আমি ওর পাশে বসে খাতাটা ধরেছিলাম, একটু ঈর্ষাও হল বোধহয়, মিষ্টি ধরনের, নিজের মেয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়। ও যখন জিজ্ঞেস করল আমার কবিতা কোথায়, বললাম পরে দেখাব। কথাটা মুখ থেকে বেরিয়েই মনটা একটু খারাপ হল। পরে মানে ঠিক কখন, সেটা আমিও জানি না।
Mind
আজ ক্লাসে একটি মেয়ে কবিতার যে ব্যাখ্যা দিল, বইয়ের নোটের সঙ্গে তার মিল নেই, কিন্তু পাঠের দুটো শব্দ দেখিয়ে নিজের যুক্তি বোঝাতে পারল। প্রথমে আমার মুখে তৈরি উত্তর এসে গিয়েছিল, তারপর শুনতে গিয়ে নিজের পড়াটাই আবার ভাবলাম। পরীক্ষায় কী লিখবে সেটা আলাদা করে বলতে হয়েছে, এই আলাদা করার কাজটাই অপছন্দ হয়। আমরা বুঝতে বলি, শেষে এমন উত্তর চাই যা অচেনা পরীক্ষক সহজে চিনতে পারবেন। বাড়ি ফিরে কবিতাটা আবার পড়লাম, মেয়েটির কথাও মাথায় রইল। সব ব্যাখ্যা সমান ঠিক, তা মনে করি না, কিন্তু যে উত্তর শুনতে আমি প্রস্তুত ছিলাম না, সেটাকে ভুল বলতে একটু বেশি সময় নেওয়া উচিত। আগামী ক্লাসে বিষয়টা উঠবে কি না জানি না, আজ নিজের পুরোনো নোটের পাশে প্রশ্নচিহ্ন দিয়েছি।