Emotion
মেয়ে আজ স্কুলের একটা ঝগড়ার কথা নিজে থেকে বলল। আমি সঙ্গে সঙ্গে কে কী বলেছে, শিক্ষক জানেন কি না, এসব জিজ্ঞেস করতে শুরু করতেই ও থেমে গেল। বলল, মা, আগে শোনো। কথাটা শুনে প্রথমে বিরক্ত হয়েছিলাম, আমি তো সাহায্য করতেই চাইছিলাম। তারপর ও আবার বলা শুরু করল, আমি এবার প্রশ্ন করিনি। শেষে কোনও সমাধান চাইল না, শুধু পাশে বসে রইল। অনেকদিন পরে মনে হলো আমাকে রিপোর্ট দিচ্ছে না, আমার সঙ্গে কথা বলছে। ভালো লেগেছে, আবার একটু খারাপও, কারণ এতদিন হয়তো ও এই সুযোগটা পায়নি। বিষয়টা এখনও মেটেনি। ও কাল কী করবে আমি জানি না, আর আজ সেটা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করিনি।
Mind
বারান্দার দুই মরিচগাছ একই দিনে লাগানো, একই মাটি, তবু একটির পাতা ভালো আর অন্যটি নুয়ে থাকে। আগে ভেবেছিলাম পানি কম, পরে টব তুলে দেখি সেটার মাটি এখনও ভেজা। আরও পানি দিলে লাভ হতো না। এখন দেখছি কোনটায় কতক্ষণ রোদ পড়ে, রেলিংয়ের ছায়াটা দুপুরে অন্যদিকে যায়। বিষয়টা ছোট, কিন্তু অনুমান করে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে কয়েকদিন দেখা দরকার। স্বামী হাসছে, বলছে গাছেরও লগ খুলব নাকি। খুলিনি, শুধু ফোনে দুটো ছবি রেখেছি। কাল জায়গা বদলে দেখব, একসঙ্গে মাটি, পানি, টব সব পাল্টালে কোনটায় কাজ হলো বোঝা যাবে না। গাছ অবশ্য আমার পরীক্ষার সময়সূচি মেনে বড় হবে বলে কথা দেয়নি।
Body
ভোরের হাঁটায় আজ প্রথম দশ মিনিট ডান হাঁটু শক্ত ছিল, তারপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। অভ্যাসমতো গতি বাড়াতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আজ কারও সঙ্গে তাল মেলানোর ছিল না, ঘড়িও দেখিনি। এতে হাঁটা কম হলো কি না জানি না, ফিরে এসে শরীর হালকা লেগেছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে জুতার ফিতা খুলতে দেখি পিঠে বেশ ঘাম, অথচ বাইরে বাতাস ঠান্ডা মনে হচ্ছিল। কাঁধ দুটোও নিচে নামাতে হয়েছে, অকারণে তুলে রেখেছিলাম। গোসলের পরে চায়ের কাপ ধরতে হাত স্থির আর গরম ছিল, সেই অনুভূতিটা ভালো। বাকি দিন কী হবে এখনও শুরু হয়নি, সকালটুকু অন্তত শরীরের সঙ্গে দরকষাকষি করতে হয়নি।