Body
অনেক দিন পরে হারমোনিয়ামটা নিয়ে বসেছিলাম, মেয়ে পাশে বসে একই চাবি বারবার টিপছে বলে প্রথমে কিছুই গাইতে পারছিলাম না। ওকে বেলো টানার কাজ দিলাম, তাতেও হাওয়া কখনও বেশি কখনও কম, কিন্তু আমার নিজের গলাটাই যে এত তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে ভাবিনি। স্কুলে গাওয়া গান, সুর জানা, তবু লম্বা লাইন শেষ করার আগেই দম নিতে হচ্ছে। জল খেয়ে আবার ধরলাম, এবার একটু আস্তে। হিমঘরের খাতার দিকে ঝুঁকে থাকার সময় নিজের বুকপিঠের কথা মনেই থাকে না, গান গাইতে গিয়ে বুঝলাম কতটা গুটিয়ে বসেছিলাম। শেষে মেয়ের ঘুম পেয়েছে, আমার তখন গলাটা বেশ খুলেছে, বন্ধ করতে ইচ্ছে করছিল না।
Mind
বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ছোটবেলায় যে বইটা বারবার পড়তাম তার নাম মনে আছে কি না, একটা ছেলে রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদীর ধারে যেত। বাবা তিনটে নাম বললেন, একটাও মিলল না। অদ্ভুত ব্যাপার, বইয়ের মলাটের ছেঁড়া কোণ মনে আছে, লাইব্রেরির কোন তাকে ছিল তাও, অথচ ছেলেটার নাম নেই। এখন ভাবছি গল্পে সত্যিই নদী ছিল, না অন্য বইয়ের নদী এতে ঢুকিয়েছি? বাবা বললেন আমি নাকি গল্প বানিয়ে তাঁকে বই খুঁজতে বলছি। হতে পারে! পুরনো স্কুলের বইগুলো কোথায় গেছে জানতে ইচ্ছে করছে, অঙ্কের হিসাব ভুল হলে ধরা যায়, এই স্মৃতির ভুলটা ধরব কী দিয়ে।
Emotion
মেয়ে আজ বলল, মা সমুদ্রের প্ল্যানটা আর কোরো না, আগে গেলে তারপর আমাকে বোলো। পাঁচ বছরের মেয়ে এমন কথা বলে কী করে! ওকে বকিনি, কিন্তু খুব খারাপ লাগল, যেন আমার কথার আর দাম নেই। তিনবার যাওয়া বাতিল হয়েছে, সবটা আমার দোষও নয়, আলুর মরশুমে ছুটি চাইতে গেলেই মালিকের ওই মুখ। স্বামী বলল, এত মন খারাপ করছ কেন, একদিন যাবই। এই একদিন কথাটাতেই এখন রাগ হয়। মেয়েকে নীল রঙে ঢেউ আঁকতে দেখে পাশে বসেছিলাম, ও আমার জন্য একটা ছোট মানুষ এঁকে দিল। আঁকাটা ভালো লেগেছে, তবু আজ আর সমুদ্রের ভিডিও দেখতে পারলাম না।