Player চাবিরতি
Emotion
বাড়িতে টাকা পাঠানোর পরে আব্বু ফোন করে শুধু দোয়া করলেন, আজ কোনো নতুন খরচের কথা বললেন না। আমার খুব শান্তি লাগছিল শুনতে, আবার মনও খারাপ হল, কারণ কথা বলার সময় উনি বারবার বলছিলেন আমাকে কত কষ্ট করতে হয়। আমি চাই না আমার টাকা নিতে তাঁর লজ্জা হোক। ছোটবেলায় আমাকে খাওয়াতে তো উনি অনুমতি চাননি। বললাম কাজ ভালো চলছে, কাজিনও ভালো আছে, তারপর গ্রামের কার বিয়ে হচ্ছে জানতে চাইলাম। সেই গল্প করতে করতে তাঁর গলা একটু স্বাভাবিক হল। ফোন রেখে অনেকক্ষণ ছাদে বসেছিলাম। বাড়ি যেতে ইচ্ছা করছিল, কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া, শুধু এক দুপুর আব্বুর পাশে বসে খেতে। এখন ছুটি পাওয়া যাবে না, কথাটা জানি, তবু ইচ্ছা তো থামে না।
Mind
সঞ্চয়ের খাতায় একজনের নামের পাশে টাকা লিখিনি, অথচ সে বলছিল দিয়েছে। প্রথমে নিজের হিসাব ঠিক ধরেই কথা বলছিলাম, পরে তারিখ মিলিয়ে মনে পড়ল সেদিন চা খেতে খেতে টাকা নিয়েছিলাম, খাতা ছিল ঘরে। টাকাটা ঠিক ছিল, লেখা বাদ গেছে। আমি সবার সামনে ভুলটা বলেছি, কিন্তু তারপরও মাথায় ঘুরছিল মেয়েটি কতক্ষণ ভেবেছে আমি তাকে বিশ্বাস করছি না। সংখ্যার হিসাব রাখা সহজ মনে হয়, টাকা দেওয়ার সময় মানুষ কী বলেছিল সেটাও কখনো দরকার পড়ে। এখন থেকে সঙ্গে সঙ্গে লিখব, এই কথাটা আগেও বলেছি। আজ খাতার ভেতর কলম আটকে রেখেছি। মজার কথা, তিরিশ মেশিনের কাজ মনে থাকে, নিজের হাতে নেওয়া একটা টাকা ভুলে যাই।
Body
ছাদে উঠে আজ আমরা কয়েকজন হাত-পা টানার ব্যায়াম করছিলাম। পাশের মেয়ে ফোনে দেখে দেখায়, আমরা অর্ধেক করি আর অর্ধেক হাসি। হাত মাথার ওপরে তুললে কাঁধে টান লাগছিল, একটু পরে নরম হল। সারাদিন লাইনে হাঁটি বলে মনে হয় শরীরের আর নড়াচড়া দরকার নেই, কিন্তু এভাবে ধীরে হাত ঘোরানো আলাদা। বাতাসে ঘাম শুকিয়ে গায়ে ঠান্ডা লাগল, নিচে নামতে ইচ্ছা করছিল না। আমার ছোট কাজিন বলল আমি নাকি ব্যায়ামের মধ্যেও সবার ভঙ্গি ঠিক করছি। সত্যি বলেছে, অভ্যাস। পরে বসে চা খেলাম, পা দুটো সামনে ছড়িয়ে। তখন পায়ের পাতায় ধুকধুক করছিল, ব্যথা নয়, সারাদিনের দাঁড়িয়ে থাকার খবর যেন বসার পরে এল।