Body
সকালে খালি ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছিলাম। হাওয়া ছিল, প্যাডেল চাপতে জোর লাগছিল না। মাল উঠলে একই রাস্তা কত আলাদা লাগে। উঁচুতে উঠতে উরু টানে, হাত দিয়ে হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরতে হয়। আজ ফেরার সময় ধীরে এসেছি। বাড়িতে জল ঢেলে পা ধুতেই ধুলো বেরিয়ে গেল, আঙুলের ফাঁকে ঠান্ডা লাগল ভালো। শোনালি বলল বসে থাকো, চা দিচ্ছি। বসার পরে টের পেলাম কোমর শক্ত হয়ে আছে। আগে মনে হচ্ছিল তেমন খাটুনিই হয়নি। একটু পরে মেয়েটা পাশে এসে বসে আমার হাতে হাত রাখল, বলল খসখসে। ওর হাত কত নরম, ধরলে চাপ দিতে ভয় হয়।
Mind
চায়ের দোকানে একজন বলল এখন নাকি সবাই ফোন দেখে রাস্তা চেনে। আমি ভাবছিলাম ফোনে সরু গলিটা দেখা গেলেও সেখানে কোন সময় মাল নামানো যাবে সেটা দেখায় কি না। একটা দোকানের সামনে দুপুরে জায়গা থাকে, আরেকটার সামনে তখন লোক ভিড় করে। আমার রাস্তাগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়। ছেলেকে কথাটা বললাম, ও বলল ফোনেও অনেক কিছু দেখা যায়। হবে। আমি সব জানি না। কিন্তু যে গলিতে রোজ যাই সেখানে চোখ বন্ধ করেও মোড় মনে পড়ে, অথচ নতুন একটা ঠিকানা কাগজে লেখা থাকলে ধীরে ধীরে পড়তে হয়। মাথা একেক জিনিস একেক রকম ধরে রাখে।
Emotion
ছেলে আজ আমার ভ্যানের রং নিয়ে কথা বলছিল তার বন্ধুর সঙ্গে। বলল এটা বাবার নিজের ভ্যান। আমি পাশেই ছিলাম, ওরা খেয়াল করেনি। শুনে ভালো লাগল খুব। মাঝে মাঝে ভাবি ও বড় হয়ে ভালো চাকরি করলে আমার এই কাজ দেখে লজ্জা পাবে কি না। এমন ভাবি কেন জানি না, ও তো কোনোদিন খারাপ কথা বলেনি। আজ বাড়ি এসে শোনালিকে বললাম। সে বলল তুমি নিজের মনেই কত কথা বানাও। ঠিকই বলেছে। তবু ছেলের মুখে নিজের ভ্যান কথাটা শুনে মনটা খুশি আছে। রাতে ও পড়ছিল, আর বিরক্ত করিনি। শুধু জিজ্ঞেস করলাম খাওয়া হয়েছে কি না।