Mind
নতুন ছেলেটি বলছে পুরোনো দাতাদের কাছে যাওয়ার আগে ফোনে সময় ঠিক করলে সিঁড়ি কম ভাঙতে হবে। কথা ঠিক, তবে ফোনে যিনি ব্যস্ত বলেন, সামনে বসলে অনেক সময় তিনিই খাতা খুলে দেখতে চান। সব অফিস এক নিয়মে চলে না। আজ তালিকায় নামের পাশে লিখেছি কার সঙ্গে আগে যোগাযোগ দরকার, কোথায় দুপুরে যাওয়া ভালো। এতদিন এই হিসাব মাথায় ছিল, ছেলেটি আমার মাথা পড়বে কীভাবে। একটা অফিসের ব্যাপারে সে অন্য সময় প্রস্তাব করল, তার আগের অভিজ্ঞতা আছে। সেটা মেনে নিয়েছি। আগামী সপ্তাহে ফল দেখা যাবে। শুধু বেশি জায়গায় ঢোকা নয়, কথা বলার সুযোগ পাওয়াটাই দরকার, নইলে জুতার খরচ বাড়ে, তহবিল নয়।
Body
আজ শেষ অফিসে লিফট চলছিল, এইটুকু সুবিধায় ফেরার সময় হাঁটু অন্য দিনের চেয়ে ভালো ছিল। বাসে বসার জায়গাও পেয়েছি। ব্যাগটা কোলে না রেখে দুই পায়ের মাঝখানে রাখলাম, কাঁধ থেকে ফিতার চাপ সরে গেলে বোঝা যায় সারাদিন কতক্ষণ টেনে রেখেছি। বাসায় এসে জামা বদলে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলাম, স্ত্রীর ধনেপাতার টব থেকে ভেজা মাটির গন্ধ উঠছিল। মাথায় তখনো অফিসের কথা, কিন্তু মুখ ধোয়ার ঠান্ডা পানি আর বাতাসে বেশ আরাম লাগল। চা একটু পরে খেয়েছি। স্ত্রী বললেন আজ মুখ দেখে অত ক্লান্ত লাগছে না। বললাম লিফটেরও মানুষের জীবনে অবদান আছে, সব কৃতিত্ব ওষুধকে দিলে চলবে না।
Emotion
মা ফোনে বললেন পাশের বাড়ির ছেলেটা আমার খবর জিজ্ঞেস করেছে। ছেলেটাকে ছোট থাকতে দেখেছি, এখন তার নিজের সন্তান হয়েছে। মায়ের মুখে এসব শুনলে মনে হয় আমি ঢাকায় যত বছর আছি, ওখানে সবাই তত বছর ধরে আমার জন্য খবর জমিয়ে রেখেছে। আজ কথা শেষ করতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। মা একই ঘটনার একটা অংশ আবার বললেন, আমি শুধরে দিইনি। তারপর জিজ্ঞেস করলেন ঠিকমতো খাই কি না, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি প্রতি শুক্রবারই নেন। ভালো লাগে, কেউ কোনো টার্গেট না জেনে শুধু খাওয়ার খবর নিচ্ছে। ফোন রেখে স্ত্রীকে বললাম মা আজ বেশ কথা বলেছেন। তিনি বললেন, আপনিও তো কম বলেননি।