Player ঘণ্টাবাজল
Body
মাঠ থেকে সাইকেলে ফিরতে পা দুটো এমন ভারী লাগছিল, মনে হচ্ছিল টায়ারে হাওয়া কম। নেমে চেপে দেখলাম ঠিকই আছে। দুপুরে ভাত অল্প খেয়ে বের হয়েছিলাম, তখন ক্ষুধা ছিল না, এখন পেটের ভেতর খালি খালি লাগছে আর প্যাডেল ঘোরাতে ইচ্ছা করছে না। বাড়িতে এসে উঠানে বসে পানি খেলাম, একসঙ্গে বেশি খাওয়ায় আবার পেটে ঢকঢক শব্দ। মা আগে হাত ধুতে বলল, আমি বললাম একটু পরে, কিন্তু ভাত দিলে সঙ্গে সঙ্গে উঠে গেলাম। খাওয়ার পরে অনেকটা ঠিক হয়েছে। হাঁটুর পুরোনো দাগটায় আজ আবার খোঁচা দিয়েছি, ঘাম লাগলে জ্বালা করছে। কাল মাঠে যাওয়ার আগে কিছু খাব। শুধু কাল কথাটা লিখলে তো পেট ভরবে না, মনে রাখতে হবে।
Emotion
আপা কলেজে যাওয়ার সময় বলল অঙ্ক আটকে গেলে ছবি পাঠাতে। আমি বললাম লাগবে না, এইগুলো পারি। আসলে চাইছিলাম সে আজ বিকেল পর্যন্ত থাকুক, কারণ নতুন একটা অঙ্ক দেখাব ভাবছিলাম, যেটা আমি অন্যভাবে করেছি। মুখে সেটা আর বললাম না। সে চলে যাওয়ার পরে টেবিলটা অনেক ফাঁকা লাগল, ভাই এসে সেই জায়গায় রংপেন্সিল ছড়িয়ে দিল আর আমি অকারণে বকলাম। পরে খারাপ লেগেছে, ও তো জানে না। আপাকে অঙ্কের ছবিটা পাঠিয়ে লিখলাম এটা ঠিক আছে কি না দেখো। এখনও উত্তর দেয়নি, বাসে আছে মনে হয়। ফোন বারবার দেখছি। বন্ধুরা ডাকলে মাঠে যাব, কিন্তু উত্তরটা আসুক আগে, সে ঠিক বললে বাবাকেও খাতাটা দেখাতে পারব।
Mind
বিজ্ঞানের সংজ্ঞাটা তিনবার পড়েও বই বন্ধ করলে মাঝের কথাটা ভুলে যাচ্ছি। অথচ সাইকেলের ডায়নামো ঘুরলে আলো জ্বলে কীভাবে সেটা কাউকে বোঝাতে পারি। তাই আজ খাতার পাশে গোল করে একটা ছবি আঁকলাম, ভেতরে কী থাকে সেটাও, তারপর বইয়ের বাক্যটার সঙ্গে মিলালাম। এবার মনে হচ্ছে শুধু শব্দ মুখস্থ না করে একটু বুঝেছি। তবে পরীক্ষায় ছবি এঁকে ছেড়ে দিলে নম্বর দেবে না, বাক্যটাও লিখতে হবে। একবার না দেখে লিখে আপাকে পাঠাব। ফোন কাছে রাখলে আবার ভিডিও খুলে ফেলি, তাই মায়ের কাছে চার্জে দিয়েছি। দরকার হলে নিয়ে আসব। মাকে বলিনি যে নিজের কাছ থেকে ফোন লুকাচ্ছি, বললে পরে ছোট ভাইকে পড়াতে গেলেই সেটা বলবে।