Player খামিরউঠল
Body
ভোরে চায়ের কাপ ধরতে গিয়ে আঙুলগুলি ঠিকমতো ভাঁজ হচ্ছিল না। শীত নয়, তবু ঘুম থেকে উঠলে কিছুক্ষণ হাত এমন থাকে। কাপ নামিয়ে বারান্দায় ধীরে হাঁটলাম, তারপর দুই হাত খুললাম বন্ধ করলাম। আগে খামির ধরেই বুঝতাম হাত তৈরি হয়েছে কি না, এখন চায়ের কাপেই সেই পরীক্ষা হয়। নিচে রুটির গন্ধ আসছিল, পেটেও খিদে টের পেলাম। ছেলে নরম রুটি এনে দিল, শক্ত ধারেরটুকু ছোট করে ছিঁড়ে খেলাম। খাওয়ার সময় আর আঙুল নিয়ে ভাবিনি। শুধু কাপটা বেশি ভরিনি, একটু কম থাকলে তুলে মুখে নেওয়া সহজ হয়।
Emotion
নাতি আজ আমাকে পুরোনো বেকারির মাস্টার বলে ডাকল। কোথায় শুনেছে জানি না, হয়তো তার বাবার কাছে। শুনে ভালো লাগল, তারপর বললাম এখন তো আর কাজে যাই না। সে বলল তাতে কী, তুমি তো বানাতে জানো। এমন সহজে কথাটা বলল যে আমার আর উত্তর রইল না। দুপুরে বড় ছেলেকে ঘটনাটা বলতে গিয়ে দেখলাম আমি বেশ হাসছি। ওরাও হাসল। বহু বছর মজুরি নিয়ে বাড়ি ফিরেছি, কাজের গল্প খুব করিনি, এখন ছোট ছেলেটা সেই কাজের নাম ধরে ডাকে। তার কাছে আমি শুধু বারান্দার চেয়ারে বসে থাকা মানুষ নই, এইটুকু ভালো।
Mind
স্ত্রীর করা একটা রান্নার মাপ লিখতে বসেছিলাম, মেয়েকে ফোন করলে সে বলল মা তো চামচে মাপত না। সে কথা আমিও জানি, কিন্তু শুধু পরিমাণমতো লিখলে পরে কে কী বুঝবে। বেকারিতে ওজন থাকত, ঘরের রান্নায় তিনি হাঁড়ি আর মানুষের সংখ্যা দেখে নিতেন। মনে পড়ল অতিথি এলে আগে পানি বাড়াতেন না, আরও পেঁয়াজ কাটতে বলতেন। সেই কথাটা লিখেছি। মেয়ে বলল একদিন একসঙ্গে বানালে বোঝা যাবে কত লাগে। ঠিক আছে, তবে তার মায়ের মতো হবেই এমন কথা বলিনি। আগের স্বাদ মনে আছে বলে নতুন রান্নাকে শুরুতেই দোষ দিতে চাই না।