Mind
ছোট মেয়ের পরীক্ষার দিন সকালে একটা বুকিং আছে, জমি বাড়ির উল্টা দিকে। মেয়ে বলে সে অন্যদের সঙ্গে যাবে, আমার যাওয়া লাগে না। আমি হিসাব করছি ভোরে কাজ ধরলে তাকে নামায়ে দেওয়া সম্ভব, কিন্তু জমির মালিক আগেরবার লোক আনতে দেরি করছিল, তার ওপর ভরসা নাই। স্বামী ফোনে সময় ঠিক করতে গেলেই আমি পাশ থেকে কথা বলতেছি, সে বিরক্ত। আসলে মেয়ের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমার ট্রাক্টর দরকার নাই, এইটা আমি জানি। তবু পরীক্ষার ঘরের বাইরের রাস্তাটা একবার দেখে আসতে ইচ্ছা করছে। শুক্রবার বাজার শেষে যাব, তখন কোনো বুকিং নাই।
Body
আজ দুপুরে কাজের ফাঁকে বাড়ি এসে ভাত খাইতে বসছি, ছোট মেয়ে বলে হাতটা স্থির রাখো। দেখি গ্লাস ধরা হাতেও ইঞ্জিনের কাঁপুনি আছে, গাড়ি উঠানে বন্ধ করা অথচ আমার তালুতে এখনো ঘড়ঘড় চলে। ব্যথা না, এইটা অন্য জিনিস। ভাত মাখার সময় টের পাই না, চুপ করে বসলে পাই। মেয়ে গ্লাস নামায়ে দিতে চাইল, বললাম পানি আমি নিজেই খাইতে পারি। তারপর হাত দুইটা ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে অনেকক্ষণ গামছা দিয়ে মুছলাম, আঙুলের ফাঁকে পানি থাকলে হামার ভালো নাগে না। খাওয়া শেষে চায়ের কাপ ধরার সময় আর কাঁপুনিটা খেয়াল হয় নাই।
Emotion
সমিতির দোকানে এক লোক আমার সামনে বসেই বলল, মহিলাদের চালানো এখন ফ্যাশন হইছে। বারো বছর ধরে চালাই, আমার ফ্যাশন শেষ হয় না কেন এই কথাটা তখন মাথায় আসে নাই, এখন আসতেছে। তখন শুধু বলছি, জমি থাকলে তারিখ নেন, গল্পে তেল ভরে না। বাকিরা হাসছে, তাতেও মেজাজ ভালো হয় নাই কারণ লোকটা এমন ভাব করল যেন সে আমার প্রশংসাই করছে আর আমি বুঝি নাই। বাড়ি এসে স্বামীকে বললাম, সে বলে বাদ দাও। বাদ তো দিছিই, লোকটার জন্য কাজ ফালায়ে রাখি নাই। কিন্তু চায়ের দোকানে কাল তাকে পেলে কথাটা বলা লাগবে।