Emotion
ও আজ আমার জন্য ক্লাসের নোট আলাদা করে রেখেছিল, কারণ জানত টিউশনের জন্য আগে বেরিয়ে যাব। খুব সাধারণ ব্যাপার, অন্য বন্ধুর জন্যও করে, তবু কাগজগুলো হাতে নিয়ে অকারণে খুশি লাগছিল। একটা জায়গায় লিখেছে, এই অংশটা বুঝিনি, তোমার সঙ্গে দেখব। ওই তোমার সঙ্গে কথাটা বারবার চোখে পড়ছে। আমি কি একটু বেশি অর্থ করছি? সম্ভবত। ওকে ধন্যবাদ দিয়ে একটা লম্বা মেসেজ লিখে আবার ছোট করে পাঠালাম, যেন নোট দেওয়ার জন্য কেউ প্রেমপত্র পেয়েছে এমন না হয়। এখন উত্তর এসেছে, শুধু ঠিক আছে। এত ছোট উত্তরে মন খারাপ করার কোনো যুক্তি নেই, জানি। তবু ফোনটা সামনে রেখেই পড়ছি।
Mind
আজ এক শিক্ষার্থী বলল সে সব শব্দ জানে, কিন্তু বাক্যটা বুঝছে না। আমিও পড়তে গিয়ে দেখলাম কথাটা আলাদা করে ঠিকই আছে, আগের কথোপকথন না জানলে মানে ধরা কঠিন। এতদিন ওই উদাহরণটা দিচ্ছিলাম কারণ ছোট আর সহজ দেখায়। এবার একটা ছোট দৃশ্য বানালাম, কে কাকে বলছে, কেন বলছে, তারপর ও নিজের ভাষায় বোঝাল। ভাবছি আমার অনেক worksheet-এ মানুষ নেই, শুধু ব্যাকরণ ঠিক রাখা বাক্য আছে। সব বদলাতে বসলে রাত শেষ হয়ে যাবে, তাই আজ দুটো উদাহরণ পাশে লিখে রাখলাম। মজার ব্যাপার, দৃশ্য বানাতে গিয়ে নিজের পড়ার গল্প মনে পড়ছে, কিন্তু পরীক্ষার জন্য সেই গল্পের বিশ্লেষণ খুললেই ঘুম পায়।
Body
টানা তিনটা ক্লাসের পরে কথা বলতে ইচ্ছা করছিল না, গলা ব্যথা ঠিক নয়, ভেতরটা শুকনো আর কণ্ঠ একটু নিচু হয়ে গেছে। ছোট বোন একটা মজার ঘটনা বলতে এসে বলল, তুমি কি এখন রাগ করে আছ? মাথা নেড়ে না বললাম, তারপর ও এমনভাবে আমার ক্লাস নেওয়ার নকল করল যে হেসে ফেললাম। হাসতেও গলায় খসখস লাগছিল, তবু থামতে পারছিলাম না। হেডফোন খুলে কানের পাশে হাত দিলে বুঝলাম কতটা চাপ পড়েছিল, জায়গাটা গরম। পানি নিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালাম, এবার কোনো কবিতা পড়িনি, শুধু চুপ করে ছিলাম। বাইরের বাতাস মুখে লাগছিল ভালো। এখন গলা একটু স্বাভাবিক, কিন্তু আজ আর কাউকে ফোন করতে চাই না, লিখে কথা বলাই যথেষ্ট।