Player আধাঘণ্টা
Mind
বড় ছেলে স্কুল থেকে এসে কাউন্টারে বসতে চায়, ওকে দেখে ভালো লাগে বলে আমি হয়তো বেশি কাজ দিয়ে দিচ্ছি। ওর পড়ার সময়টা কতখানি যাচ্ছে সেটা ঠিক গুনিনি। নিজের মনে আগেই ভেবে রেখেছি ফার্মেসি পড়লে দোকানটা অন্যরকম করতে পারবে, কিন্তু ও তো এখনও বারো বছরের ছেলে, আজ দোকান ভালো লাগল মানেই সারাজীবনের পছন্দ নয়। রুমা বলেছে আগে ওকে জিজ্ঞেস করতে। জিজ্ঞেস করব, তবে এমনভাবে নয় যাতে আমার পছন্দের উত্তরটাই দিতে হয়। আমি নিজে ভাইদের সঙ্গে বিদেশে যাইনি, নিজের পথ নিয়েছিলাম। ছেলের ক্ষেত্রে সেই কথাটা মনে রাখা সহজ হওয়ার কথা, কাজের সময় কেন যেন ভুলে যাই।
Body
রাতে খাওয়ার পর ছোটটা এসে আমার পেটে মাথা রেখে গল্প শুনছিল। চেয়ারে বসে ছিলাম বলে নড়াচড়া করার তেমন জায়গা নেই, তবু ও সরলে আবার নিজেই কাছে টেনে নিচ্ছিলাম। সারাদিন দোকানে কত হাত ধুই, কত কাগজ ধরি, বাড়ি ফিরে ছেলের চুলে হাত দিতে অন্যরকম ভালো লাগে। গল্পের মাঝখানে হাই উঠে গেল, ও বলল আমি নাকি গল্পটা জানি না তাই সময় নিচ্ছি। আসলে ভাত খাওয়ার পর চোখ বুজে আসছিল, শরীর গরম আর ভারী লাগছিল। জানালা দিয়ে হাওয়া আসায় একটু আরাম হল। শেষটা বানিয়ে বলতেই ধরে ফেলল, আগের দিন অন্য শেষ ছিল। ওর স্মৃতির কাছে হার মেনে আবার শুরু করলাম। হাঁটুতে হাত রেখে ঠেস দিয়ে বসেছিলাম, উঠতে ইচ্ছে করছিল না।
Emotion
লন্ডন থেকে ভাই ফোন করেছিল, তার ছোট ছেলে বাংলায় আমাকে একটা পুরো কথা বলল, আগে শুধু সালাম দিয়েই ফোন ছেড়ে দিত। শুনে খুব ভালো লাগল, দুবার বলতে বলায় বেচারা একটু বিরক্তও হল। ফোনটা মাকে দিয়ে আমি দোকানের দিকে বের হলাম, কিন্তু মন পড়ে থাকল বাড়িতে। সবাই একসঙ্গে যে মাসটা ছিল, তখন ঘর ভর্তি শব্দ নিয়ে কত অভিযোগ করেছি। এখন ফোন শেষ হলে সেই চুপচাপ ভাবটা বেশি লাগে। ভাইয়ের কাছে যাওয়ার কথা উঠলে আমি দোকানের ব্যস্ততার কথা বলি, মিথ্যাও না। তবু আজ মনে হচ্ছিল ওদের রান্নাঘরে বসে এক কাপ চা খেলে ভালো হতো, কোনও হিসাব বা জরুরি খবর ছাড়া। এ কথা ফোনে আর বলা হয়নি।