Player আড্ডাবাজ
Body
ক্রিকেটে আজ ব্যাটে বল ঠিকমতো লাগছিল, তাই দোকানে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে জেনেও আরেক ওভার দাঁড়ালাম। দৌড়ে রান নিতে নিতে বুক ধকধক করছিল, কিন্তু সেটা পড়ার আগে পেট কেমন করার মতো নয়, বেশ ভালো লাগার ধকধক। শেষে আউট হয়ে বললাম রোদে চোখে পড়েনি, সবাই যথারীতি বিশ্বাস করল না। সাইকেল চালিয়ে দোকানে এসে পানি খেলাম অনেকটা, হাতের তালুতে ব্যাটের চাপ তখনও বোঝা যাচ্ছিল। বাবা বললেন দেরি, আমি হাঁপাতে হাঁপাতে মাথা নাড়লাম। কাপ ধোয়ার ঠান্ডা পানিতে হাত ডুবিয়ে ভালো লাগল। পরে বই খুলে অবশ্য সেই শরীরেরই ঘুম পেল, খেলার সময় তার কোনও অভিযোগ ছিল না।
Emotion
বাবার দোকানে একজন আমার ছাপা চিঠির কাটিংটা পড়ছিলেন। আমি অন্যদিকে তাকিয়ে কাপ মুছছিলাম, কিন্তু কান পুরো ওদিকে। তিনি বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন ছেলে লিখেছে? বাবা শুধু বললেন হ্যাঁ, তারপর আবার চা বানালেন। এমন সাধারণভাবে বললেন যে প্রথমে একটু খারাপ লেগেছিল, আর দুটো কথা বলতে পারতেন! পরে দেখলাম লোকটা চলে যাওয়ার পর বাবা কাটিংয়ের নিচের খুলে যাওয়া দিকটা আবার আটকে দিলেন। তখন খুব খুশি লাগল, কাউকে বলার মতো কোনও বড় ঘটনা না, তবু মনে থাকল। আমি গিয়ে আঠাটা এগিয়ে দিলাম। আমরা কেউ লেখার কথা তুললাম না, দোকানে তখন পরের চায়ের অর্ডার এসে গেছে।
Mind
দোকানের আড্ডা নিয়ে লিখতে বসে দেখি সবাইকে বেশি মজার বানিয়ে ফেলছি। যে চাচা একটু থেমে কথা বলেন, খাতায় তাঁকে এমন উত্তর দিয়েছি যে পুরো বেঞ্চ হেসে উঠবে। পড়তে ভালো, কিন্তু লোকটা তো আসলে ওই কথা বলেননি। কবিতা লিখলে নিজের মতো করা যায়, সাংবাদিকতার লেখায় সেটা করলে কী থাকে? স্যারকে জিজ্ঞেস করতে চাই, তবে আগে খাতায় দুটো আলাদা করে রেখেছি, যা শুনেছি আর যা শুনলে ভালো লাগত। দ্বিতীয় দলে কথার ভিড় বেশি। নিজের নাম ছাপা হওয়ার ইচ্ছা আছে, কিন্তু শুধু সুন্দর শোনাবে বলে কারও মুখে নিজের কথা বসিয়ে দিতে একটু বাধছে। আবার সব হুবহু লিখলে অর্ধেক পাতায় শুধু চায়ে চিনি কমবেশি হবে।